ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লাইসেন্স বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নেই ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি
মুজিবনগর ইউনিয়ন: চরফ্যাশনের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভুট্টু মিয়া—যিনি ওই এলাকার ভোটারও নন এবং যার কোনো দোকান বা ব্যবসা নেই—তিনি ‘মেসার্স তাওহীদ ষ্টোর’ নামে সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন। অথচ বাস্তবে ওই নামে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই।
কলমী ইউনিয়ন: রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রাসেল নামের এক ব্যক্তি কোনো দোকান বা প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব ছাড়াই কলমী ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। যা নিয়ে খোদ ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন: ‘মেসার্স লিয়া ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও সরেজমিনে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ পাওয়া সুমাইয়া আক্তার লিয়া মূলত একজন টিকটকার এবং তিনি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নন। তিনি শুধু টিকটক করে বেড়ান, অথচ তার নামে সারের ডিলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তার ভাই প্রবাসে থেকেই ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন যে প্রতিষ্ঠানটি তার! প্রশ্ন উঠেছে, একজন প্রবাসী ব্যক্তি বিদেশে বসে কীভাবে সারের ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং বৈধ দোকান বা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই কীভাবে তারা এই লাইসেন্স পেলেন?
নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
সারের ডিলার নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়াটির পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ডিলার নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৫ সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“সারের ডিলার আমার নামে বা বেনামে নেই, চ্যালেঞ্জ করলাম। এই প্রসঙ্গে দয়া করে আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না, যাহারা নিয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।”
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র?
সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করে এভাবে ভুয়া ও বেনামি ডিলার বন্টন করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে এ ধরনের সিন্ডিকেট চক্রের দুর্নীতি সাধারণ কৃষক সমাজ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। অবিলম্বে এই অনিয়ম তদন্ত করে ভুয়া ডিলারশিপ বাতিল এবং প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে সারের ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চরফ্যাশনে সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ!স্থানীয় এমপি কে বিতর্কিত করার জন্য কি এই সিদ্ধান্ত?






