Home / বিশেষ সংবাদ / চরফ্যাশনে জমি ও দোকান দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৭ বছরের বিরোধের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

চরফ্যাশনে জমি ও দোকান দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৭ বছরের বিরোধের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ টাইম বাংলাদেশ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার চৌমুহনী এলাকায় জমি ও দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় ৬–৭ বছর ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগে দাসকান্দি গ্রামের মোঃ রায়হান হাওলাদার (৩০), পিতা: মোঃ বশির হাওলাদার (৫২), ডাকঘর: কাশেমগঞ্জ, থানা: চরফ্যাশন, জেলা: ভোলা-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক মামলা, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দোকান ও জমির দখল নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও অভিযুক্ত বশির হাওলাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দোকান ও জমি দখলের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশকারীরা উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সালিশের সিদ্ধান্ত তাদের অনুকূলে এলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা মেনে নেয়নি।
পরিবারটির অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর তাদের চারটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি চরফ্যাশন থানা, নৌবাহিনী ক্যাম্প ও প্রশাসনকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের উপস্থিতিতে দোকানের তালা খুলে পুনরায় তাদের কাছে দোকানের দখল ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, এর প্রায় দুই মাস পর আবারও ৩০–৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। তারা দোকান থেকে মালামাল বের করে দেয়, তিনটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেয় এবং।
পরিবারটি জানায়, বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন নেতার কাছে জানানো হলে কাজী মঞ্জুর হোসেন, খায়রুল ইসলাম সোহেল, ভুট্টু মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন, জামাল মিয়া, গোফরান মহাজন ও সার্ভেয়ার সুমনের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের দাবি, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও সেটি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও দাবি, বশির হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমির একটি অংশ নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন এবং সেই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক অভিযোগ ও মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত পক্ষ কোথাও তাদের দাবির পক্ষে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।
এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, তাদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। দোকান ও জমি দখলের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে তাদের দাবি। কারণ, তাদের মতে, অভিযুক্ত পক্ষের কাছে জমির মালিকানার বৈধ ও সঠিক কাগজপত্র নেই।
বর্তমানে তারা দোকান খুলতে কিংবা নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ করতে গেলেও বাধার মুখে পড়ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং আইন অনুযায়ী বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *