Home / বাংলাদেশ / চরফ্যাশনে বিদ্যুৎ নিয়ে কারসাজির আসল রহস্য ফাঁস।

চরফ্যাশনে বিদ্যুৎ নিয়ে কারসাজির আসল রহস্য ফাঁস।

চরফ্যাশন প্রতিনিধি |
চরফ্যাশনে বিদ্যুতের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেবল বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার চরম অবহেলা, খামখেয়ালি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনায় পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। সাড়ে ৪শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক গ্রিড উপকেন্দ্রটি চালুর অপেক্ষায় পড়ে থাকলেও, তা ব্যবহারে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই ওজোপাডিকো এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। ফলে এই তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।
​প্রস্তুত সাড়ে ৪শত কোটির গ্রিড, তাও কেন জোড়াতালি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরফ্যাশনে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে নবনির্মিত ২৩০/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র। সাড়ে ৪শত কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করলেই চরফ্যাশনে বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি দূর হওয়া সম্ভব।
​কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই আধুনিক উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করেনি বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই প্রতিষ্ঠান— ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আধুনিক গ্রিড উপকেন্দ্রটি ফেলে রেখে তারা এখনো বহু দূরের বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে ‘জোড়াতালি’ দেওয়া লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা ওজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো এলাকা।

কাঠগড়ায় যে দুই কর্মকর্তা
​চরফ্যাশনবাসীর অভিযোগ, আধুনিক এই উপকেন্দ্রটি চালু না হওয়ার পেছনে এবং বর্তমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের জন্য সরাসরি দায়ী এই দুই প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গ্রাহক ভোগান্তির নেপথ্যে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন:
​মো. ইউসুফ
নির্বাহী প্রকৌশলী, ওজোপাডিকো লিঃ, ভোলা।
(মোবাইল: 01700-709988)
​সাদেক মিয়া
ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ভোলা।
(মোবাইল: 01769-402117)
​স্থানীয়দের দাবি, সরকারের এত বড় উন্নয়ন প্রকল্প সুফল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও এই দুই কর্মকর্তার খামখেয়ালি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই আলোর মুখ দেখছে না চরফ্যাশনের নতুন গ্রিড।
​ভুক্তভোগী জনগণের হুঁশিয়ারি:
“সরকার সাড়ে চারশত কোটি টাকা খরচ করে আমাদের জন্য গ্রিড বানালো, আর এই কর্মকর্তাদের অবহেলায় আমরা গরমে সেদ্ধ হচ্ছি। ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে এবং নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু না হলে এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে।”
​স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা
​চরফ্যাশন উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনগণের দাবি— অনতিবিলম্বে দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে নবনির্মিত ২৩০/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *