বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান। তিনি দাবি করেন, দেশে যে হারে মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, তা অনেক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের তুলনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল রাতের এক লাইভে এসে তিনি তার মনের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক দৌলতদিয়া ঘাটের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একটি বাস পানিতে পড়ে যাওয়ার পর আমরা কাউকে উদ্ধার করার চেষ্টা না করে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি এটা আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে অনেক তরুণ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে এসে সহায়তা করেনি, বরং অধিকাংশ মানুষ ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করতে ব্যস্ত ছিল।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমানুল্লাহ আমান বলেন, দেশের অধিকাংশ চালক মাদকাসক্ত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “প্রায় ৯৯ শতাংশ ড্রাইভার কোনো না কোনোভাবে মাদকের সাথে জড়িত,” যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের আগে বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট চালু করা উচিত। এতে করে অযোগ্য ও মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করে সড়কে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সড়কে নামলেই দেখা যায় চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, যেখানে জীবনের মূল্য খুবই কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে “মৃত্যুর মিছিল” থামানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আর সড়কে এভাবে মানুষ মরতে দেখতে চাই না।”
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের চেয়েও বেশি: আমান উল্লাহ আমান।






