ভোলা জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আনজুর হাট ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা’ ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে আসছে। এমনকি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলেও এই মাদ্রাসার উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইসলামী শিক্ষা ও ব্যবস্থার প্রতি তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী সময়েও মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে পুরনো দোসরদের প্রভাব বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পকেট ভারী করার অভিযোগ:
মাদ্রাসার বর্তমান প্রিন্সিপাল বা অধ্যক্ষ মাওলানা ইমাম হোসেন দীর্ঘ বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলেও তিনি রাজনৈতিক বিভিন্ন মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন এবং মাদ্রাসার উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসার আশানুরূপ ফলাফল হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কিত কমিটি গঠন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ:
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাদ্রাসায় একটি এডহক কমিটি গঠিত হলেও পরবর্তীতে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধিদের যথাযথভাবে না জানিয়ে প্রিন্সিপাল নিজের ইচ্ছামতো কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন গঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যিনি সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং আওয়ামী পরিবার থেকে উঠে এসেছে। এছাড়া মাদ্রাসার কতিপয় শিক্ষক ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং এখনো সেই ধারা বজায় রেখেছেন।
শিক্ষার্থী ও এলাকাব্রীর দাবি:
একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা এবং শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় এলাকার সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দক্ষ ও শিক্ষানুরাগী ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হলেন মো. মাশরুর মেরাজ ভূঞা*






