Home / রাজনীতি / মিছিল-মিটিং আমরা করি, বরাদ্দ খায় উপজেলা নেতারা”— সারের ডিলার নিয়ে চরফ্যাশনে তোলপাড়!

মিছিল-মিটিং আমরা করি, বরাদ্দ খায় উপজেলা নেতারা”— সারের ডিলার নিয়ে চরফ্যাশনে তোলপাড়!

বিশেষ প্রতিনিধি:
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সরকারি সারের ডিলার নিয়োগে চরম ভাগাভাগি ও সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো বলে দাবি করা এক নথিতে দেখা যায়, উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য এককভাবে পছন্দের সারের ডিলার চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিলারশিপ প্রাপ্তির এই পুরো প্রক্রিয়ায় উপজেলা পর্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে। যাদের নামের বিপরীতে সুপারিশ করা হয়েছে, তার বড় একটি অংশই বাগিয়ে নিয়েছেন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
​সাধারণ কর্মীদের তীব্র ক্ষোভ:
​উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ— “উপজেলা নেতাদের কাছে কি পুরো ইউনিয়নের নেতৃত্ব জিম্মি? আমরা মাঠে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে শুধু মিছিল-মিটিং আর কর্মসূচি সফল করতেই বেড়াব, অথচ দলীয় কিংবা সরকারি বরাদ্দ এলেই সব পকেটে পুরবেন উপজেলা নেতারা?”
​তৃণমূলের ক্ষুব্ধ কর্মীরা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে হাজারও ত্যাগী নেতাকর্মী ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী থাকলেও বরাদ্দ ও সুবিধার ভাগ কেবল উপজেলা নেতাদের হাতেই বন্দি থাকছে।
​জিম্মি অবস্থায় সংসদ সদস্য ও পুরো চরফ্যাশন:
​উপজেলা নেতাদের এমন বেপরোয়া ও একমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে চরম বিতর্কের মুখে পড়ছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। সাধারণ মানুষের মতে, সৎ ও দলের প্রতি নিবেদিত হওয়া সত্ত্বেও কেবল গুটিকয়েক উপজেলা নেতার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এমপি মহোদয়ের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। চরফ্যাশনের সর্বস্তরের মানুষ ও তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন এই সুবিধাবাদী উপজেলা নেতাদের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

​ইউনিয়নভিত্তিক সারের ডিলার ও সুপারিশকারীদের তালিকা:
ক্রমিক ইউনিয়নের নামপ্রতিষ্ঠানের নাম সুপারিশকারীর নাম

১.নীল কমল
মেসার্স এ.এন এন্টারপ্রাইজ
জোটন কমিশনার

২.নূরাবাদ-মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজ
আলমগীর মালতিয়া

৩.চর কলমী
মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ
প্রিন্স মহাজন

৪.মুজিব নগর
মেসার্স তাওহীদ এন্টারপ্রাই জমমিনুল ইসলাম ভুট্টু

৫ আহাম্মদপুর
মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স
হোসেন মৌলভী

৬.ঢালচর
মেসার্স পাটোয়ারী ট্রেডার্স
শিমুল কমিশনার / কামাল গোলদার

৭.রসুলপুর
মেসার্স নাদিয়া এন্টারপ্রাইজ
সালাউদ্দিন মিয়া

৮.অধ্যক্ষ নজরুল নগর
সাজি ট্রেডার্স
হুমায়ুন কবির সিকদার

৯.আবুবকরপুর
মেসার্স এন্টারপ্রাইজ
শাহিন কমিশনার

১০.ওমরপুর
মহাজন ট্রেডার্স
গোফরান মহাজন

১১.এওয়াজপুর
মেসার্স হাওলাদার ট্রেডার্স
আহসানউল্লাহ বাহার

১২.কুকরী মুকরী
মেসার্স প্রান্তিক এন্টারপ্রাইজ
আরিফ ফরাজী / কাজী অনিক

১৪. ওসমানগঞ্জ
সিকদার এন্টারপ্রাইজ
কাজী মঞ্জুর হোসেন

১৫.আসলামপুর
মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ
মো: মহিউদ্দিন বাচ্চু

১৬.চর মাদ্রাজ
মেসার্স র‍্যাংগস বিল্ডার্স এন্ড বিজনেস
মো: কায়ছুর আহাম্মদ

১৭.জিন্নাগড়
মেসার্স ইলমি ট্রেডার্স
শাহাবুদ্দিন সবুজ

১৮আমিনাবাদ
মেসার্স নোমান ট্রেডার্স
সাজ্জাদ হোসেন

১৯.হাজারীগঞ্জ
মেসার্স কৃষি বিতান
আইয়ুব আলি

২০জাহানপুর
মেসার্স ফরাজী ট্রেডার্স
মো: আবু বকর সিদ্দিক (মিল্টন)

২১.আবদুল্লাহপুর
মেসার্স লিয়া এন্টারপ্রাইজ
দিপু ফরাজী
২২.চর মানিকা
জিসান এন্টারপ্রাইজ

স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও ত্যাগী কর্মীরা এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে কোনো সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের হাতে চরফ্যাশন জিম্মি না থাকে এবং সারের বণ্টন ও ডিলারশিপের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছতা ফিরে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *