চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার করিমজান মহিলা মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের এক প্রার্থীকে ব্যাকডেট (পূর্বের তারিখ দেখিয়ে) নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওই নিয়োগের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এতে মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাকডেট দিয়ে নিয়োগের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ল্যাব সহকারী পদে হাসনাইন নামে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রার্থীর বর্তমান বয়স নিয়োগের প্রচলিত বয়সসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সূত্র বলছে, তার জন্মতারিখ ০১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ৫৯৯৫৩৮৫৭৮৭। এ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে সরকারি চাকরির বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন।
এ কারণে তাকে নিয়োগ দিতে পূর্ববর্তী তারিখ দেখিয়ে বা ব্যাকডেটের মাধ্যমে নিয়োগের কাগজপত্র প্রস্তুতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, নিয়োগের প্রকৃত তারিখ ও প্রার্থীর বয়স যদি বিধিমালা অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন তারিখকে কার্যকর হিসেবে দেখানো হবে? উল্লেখ্য, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বেসরকারি মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে এমপিও শিটে জন্মতারিখ পরিবর্তন ও সংশোধন সংক্রান্ত পৃথক নীতিমালাও প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নিয়োগপ্রত্যাশী হাসনাইন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রার্থীর আত্মীয় হিসেবে পরিচিত রতন কন্ট্রাক্টর ও বাবুল মাস্টারের মাধ্যমে এই নিয়োগের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কীভাবে ব্যাকডেট দিয়ে এমন বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় চাকরি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
নিয়োগকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের। স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, হাসনাইনকে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের সঙ্গে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আ ন ম আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ মিয়া এই নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ
ব্যাকডেটের মাধ্যমে বয়সসীমা এড়িয়ে নিয়োগ এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা—এই বিষয়গুলো সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্যে যাচাই করা হোক। বিশেষ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তারিখ, আবেদন করার সময় প্রার্থীর বয়স, নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত, নিয়োগপত্রের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ দুর্নীতির বিষয় নয়; বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতারও প্রশ্ন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে ব্যাকডেটের অভিযোগ, বয়সসীমা লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে করিমজান মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং অভিযুক্ত প্রার্থীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশনে ব্যাকডেট দিয়ে মাদ্রাসায় ল্যাব কর্মকর্তা নিয়োগ





