Home / বিশেষ সংবাদ / চরফ্যাশনে উন্নয়নের নামে হরিলুট! আব্দুল্লাহপুরে নিম্নমানের ইট ও ফাঁকা রেখে রাস্তার সোলিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

চরফ্যাশনে উন্নয়নের নামে হরিলুট! আব্দুল্লাহপুরে নিম্নমানের ইট ও ফাঁকা রেখে রাস্তার সোলিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

জারিয়াত,চরফ্যাশন প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় ইটের সোলিংয়ের কাজে চরম গাফিলতি এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি মোটা অঙ্কের বরাদ্দ দিয়ে এই গ্রামীণ রাস্তাটি টেকসইভাবে তৈরি করার কথা থাকলেও ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা তা মানছেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে স্পষ্ট, রাস্তাটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ২য় বা ৩য় শ্রেণীর পুরোনো ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইটের সোলিং বিছানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নীতি মানা হচ্ছে না। একটি ইট থেকে আরেকটি ইটের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা (গ্যাপ) রেখে তড়িঘড়ি করে বিছানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ বিধিমালার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি টাকা দিয়ে রাস্তা হচ্ছে জনগণের উপকারের জন্য, কিন্তু এখানে যা হচ্ছে তা উন্নয়নের নামে সরাসরি লুটপাট। ইটের সোলিং যেভাবে ফাঁকা ফাঁকা করে এবং নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হচ্ছে, তাতে একটি ভারী ট্রাক বা ট্রলি গেলেই এই রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে শেষ হয়ে যাবে। এক মাসের বেশি এই রাস্তা টিকবে বলে মনে হয় না।”
​জনগণের প্রশ্ন, টেকসই ও গুণগত মান নিশ্চিত করে যেখানে গ্রামীণ অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা, সেখানে কার ইশারায় বা কার স্বার্থে এভাবে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কাজ করা হচ্ছে? প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট করে এই লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
​এই বিষয়ে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অনতিবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী সঠিক নিয়মে রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *