নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা:
আকাশে সামান্য মেঘের আনাগোনা কিংবা একটুখানি বাতাস বইলেই বিদ্যুৎ গায়েব—ভোলার বাসিন্দাদের কাছে এটি এখন এক নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। শুধু ঝড়-বৃষ্টিই নয়, তীব্র গরমে যখন বিদ্যুতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে হাঁসফাঁস করতে হয় জেলাবাসীকে। অথচ ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে আলো ছড়াচ্ছে বরিশালসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে। নিজের জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও ভোলার মানুষের এই অন্ধকারে থাকার নিয়তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ আর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
গ্রাহকদের প্রশ্ন ও ক্ষোভ:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা নিয়মিত এবং সময়মতো বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও কেন তাদের নিয়ে এই ‘তামাশা’ করা হচ্ছে? তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আকাশে একটু মেঘ জমলে বিদ্যুৎ থাকে না, বৃষ্টি হলে থাকে না, আবার বেশি গরম পড়লে তো কথাই নেই। তাহলে আমাদের এই বিদ্যুতের প্রয়োজন কী? আমরা তো বিল ফাঁকি দিই না!” অনেকের দাবি, কোনো অসাধু চক্রের অবহেলা বা কারসাজির কারণেই ভোলার মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থবির জনজীবন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি:
বর্তমানে ভোলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তীব্র এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিদ্যুতের অভাবে বন্ধের উপক্রম হয়েছে স্থানীয় ছোট-বড় ফ্যাক্টরি, কলকারখানা এবং স’মিল (করাত কল)। ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
প্রধান সমস্যাগুলো একনজরে:
আবহাওয়ার অজুহাত: সামান্য মেঘ, বাতাস বা বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উৎপাদন সত্ত্বেও বঞ্চনা: ভোলায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তার সুফল পাচ্ছেন না, বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বরিশালের দিকে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়: কলকারখানা ও স’মিল বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
ভোলার এই দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই এখন জেলাবাসীর একমাত্র দাবি।
ভোলার আকাশে মেঘ জমলেই গায়েব বিদ্যুৎ।






