Home / বিশেষ সংবাদ / তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ভোলা: দিনে বিদ্যুৎ থাকছে মাত্র ২-৫ ঘণ্টা, কলকারখানা বন্ধের উপক্রম

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ভোলা: দিনে বিদ্যুৎ থাকছে মাত্র ২-৫ ঘণ্টা, কলকারখানা বন্ধের উপক্রম

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
আপডেট: ২৩ মে, ২০২৬
​ভোলা: জেলাজুড়ে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় ভোলার জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই চলছে বিদ্যুতের লাগামহীন লুকোচুরি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
​গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
​গত কয়েকদিন ধরে ভোলার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। গরমে ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানা গেছে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে। রাতের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
​থমকে গেছে অর্থনৈতিক চাকা, বন্ধের মুখে কলকারখানা
​বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ভোলার স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পে। কলকারখানা, রাইস মিল, এবং বরফ কলগুলো ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না।
​ক্ষুব্ধ এক ব্যবসায়ী জানান: “বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তেলের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে দেউলিয়া হওয়া ছাড়া উপায় নেই।”
​ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ থাকার কারণে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। ফ্রিজ বা কোল্ড স্টোরেজগুলো সচল না থাকায় নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
​ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি
​বিদ্যুতের এই চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ভোলার বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভোলার সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের দাবি, দ্বীপ জেলা ভোলায় উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে বিদ্যুৎ সচল রাখা হলেও, ভোলার মানুষ কেন এই তীব্র গরমে অন্ধকারে কষ্ট পাবে?
​কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ভোলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *