Home / বিশেষ সংবাদ / চরফ্যাশনে দুই কোটি টাকার ইলিশ জব্দ।

চরফ্যাশনে দুই কোটি টাকার ইলিশ জব্দ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন ভোলার চরফ্যাশনে জব্দকৃত প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ নিয়ে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের দাবি—জব্দকৃত মাছগুলো সাগরের নিষিদ্ধ ইলিশ। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা; তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই নদী থেকে এসব মাছ শিকার করা হয়েছে এবং তাদের কাছে এর বৈধ প্রমাণপত্রও রয়েছে।

​ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ: ‘সব ঠিক থাকলেও আমাদের নিঃস্ব করা হলো’ আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের এই অভিযান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অযৌক্তিক। তাদের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত ইলিশগুলো সাগরের নয়, বরং নদী থেকে আহরিত। এ দাবির সপক্ষে তারা চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য বিভাগের একটি অনুমতিপত্র প্রদর্শন করেছেন।

​উক্ত পত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, নির্দিষ্ট তারিখে নদী থেকে আহরিত বৈধ মাছ বাজারে পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে নদী থেকে মাছ শিকার করেছি। মৎস্য বিভাগের অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও অভিযানের নামে আমাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করা হলো। আমাদের এভাবে নিঃস্ব করে দেওয়ার মানে কী?”

​প্রশাসনের অবস্থান: ‘প্রমাণ আছে এগুলো সাগরের মাছ’ অন্যদিকে, অভিযান পরিচালনাকারী দল ব্যবসায়ীদের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাছের আকার, ধরন ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এগুলো সাগরের মাছ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরের মাছ পাচার করা হচ্ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

​মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাছ বিতরণ অভিযান শেষে জব্দকৃত এই বিশাল পরিমাণ মাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করে দেওয়া হয়েছে। পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাছগুলো সাধারণের কল্যাণে এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

​সর্বশেষ অবস্থা: মাছ বিতরণ সম্পন্ন হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তাদের বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *