ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলা–বরিশাল সেতুর বহুল প্রত্যাশিত দাবিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে ভোলা জেলা। দাবি আদায়ে ক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতা ভোলা পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যানার–প্ল্যাকার্ড নিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টের সামনে জড়ো হন। পরে স্লোগান দিতে দিতে তারা গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যৌথ সিদ্ধান্তে গেটের তালা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন,—
“ভোলা–বরিশাল সেতু দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। আমরা কোনোভাবেই আর দেরি মেনে নিতে পারবো না। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়সীমা ঘোষণা না করলে আরও কঠোর আন্দোলন করবে ছাত্র সমাজ।”
আরেক শিক্ষার্থী জানায়,—
“ভোলা একটি বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়েছে। সেতু হলে অর্থনীতি, চিকিৎসা, শিক্ষা—সবক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটবে।”
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন,—
“শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। এর মাধ্যমে ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশাল এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত হলে অর্থনৈতিক গতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।
সেতু নির্মাণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ছাত্র–জনতার আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব পক্ষের আলোচনায় দ্রুত সমাধান আসবে।





