Home / রাজনীতি / নজরুল নগরে ফিটিং–চাঁদাবাজদের কারণে বিএনপি’তে বিতর্ক,ছাত্রনেতা রুবেলের প্রতিবাদে তোলপাড়।

নজরুল নগরে ফিটিং–চাঁদাবাজদের কারণে বিএনপি’তে বিতর্ক,ছাত্রনেতা রুবেলের প্রতিবাদে তোলপাড়।

স্টাফ রিপোর্টার |চরফ্যাশন- ভোলা | ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ভোলা জেলার চরফ্যাশনের নজরুল নগর ইউনিয়নে ফিটিং ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ এনে
ছাত্রনেতা রুবেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রুবেলের প্রতিবাদী স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন,

“কতিপয় ফিটিংবাজ এবং চাঁদাবাজদের জন্য বিএনপি’র নামে খুবই বদনাম হচ্ছে।
কিন্তু আমরা মনে করি এসব ফিটিংবাজ এবং চাঁদাবাজরা বিএনপি’র কেউ নয় — এরা অপরাধী।”

তৃণমূলে আস্থাহীনতার সংকট

রুবেল তার স্ট্যাটাসে আরও লেখেন,

“বর্তমানে বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কতিপয় ফিটিংবাজ ও বিচার–সালিশের নামে চাঁদাবাজদের কারণে সাধারণ মানুষ আজ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
আমরা যেখানে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি,
সেখানে কিছু স্বার্থান্ধ ব্যক্তি তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করছে।
আমি আজকে সেই বাস্তব চিত্রের একটি অংশ তুলে ধরছি।”

জেলেদের দুর্দশা ও অন্যায় আচরণের অভিযোগ

রুবেল উল্লেখ করেন,

“চলমান ২৫ দিনের অভিযানের কারণে উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের জেলেরা মারাত্মক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
এই সময়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকায় তাদের জীবিকা একেবারে বন্ধ।
অনেক জেলে পেটের তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ তারা সরকারের ঘোষিত সুবিধাগুলো যথাসময়ে পাচ্ছে না।
এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কিছু মানুষ তাদের শেষ সম্বল হারাচ্ছে দলের নামধারী কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“গতকাল কলমী ইউনিয়নের গরিব দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মাছ জোর করে রেখে দেয় স্থানীয় নামধারী চাঁদাবাজরা।
প্রধান ৩ জনের নাম হলো নজরুল নগরের জুয়েল, রুবেল ও রেজাউল (যার মাদক সেবনের ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে)।
এগুলোই ছিল ওই গরিব ব্যবসায়ীদের শেষ সম্বল।”

“দলের নাম ব্যবহার করে আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিল?”

রুবেল তীব্র প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন —

“যখন মাছ নদীতে ধরা পড়ছে, তখন তারা কেন জেলেদের আটকায় না?
জেলেরা যখন ঘাটে এসে মাছ বিক্রি করে, তখনই কেন রাস্তায় আটকে তাদের মাছ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?
এ দেশে প্রশাসন আছে, কোস্টগার্ড আছে, প্রচলিত আইন আছে —
তাহলে কে তাদের এই অধিকার দিল যে তারা মানুষের উপার্জন কেড়ে নেবে দলের নাম ব্যবহার করে?
তারা কি প্রশাসনের কেউ, না কি নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়া শুরু করেছে?”

রুবেল বলেন,

“এই ধরনের ফিটিংবাজ, চিটিংবাজ ও সুবিধাবাদীদের কারণে বিএনপি আজ তৃণমূল পর্যায়ে আস্থাহীনতার মুখে পড়েছে।
আমরা যে দলটিকে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছি, সেই দল আজ কিছু অসাধু কর্মীর কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামে বিএনপি এখনও মানুষের আশার প্রতীক।
কিন্তু সেই আশা টিকিয়ে রাখতে হলে আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করতে হবে,
যাতে জনগণ আবারও বিশ্বাস করতে পারে— বিএনপি মানেই ন্যায়, মানবতা ও সততার রাজনীতি।”

ছাত্রনেতা রুবেলের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকে তাঁর সাহসী অবস্থানকে “দলের ভেতরের অপরাধীদের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিবাদ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুবেলের এই খোলামেলা বক্তব্য মাঠপর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে যে
বিএনপি অন্যায় ও অপরাধের পাশে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *