নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।
২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতা, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের রক্ষায় নেপথ্য ভূমিকার এক স্মৃতিচারণ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন লালটু। ওই সময়ের উত্তাল দিনে মোশাররফ হোসেন বাবলুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও তারেক রহমানকে রক্ষায় পরিচালিত বিভিন্ন তৎপরতার কথা উঠে এসেছে তাঁর এই লেখায়।
২০০৭ সালের দুঃসময় ও তারেক রহমানের গ্রেফতার
২০০৭ সালের সেই দিনটিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের নির্দেশে বিএনপির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই খবর পাওয়ার সাথে সাথেই শাহাবুদ্দিন লালটু তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলালকে ফোন করে প্রতিবাদ জানান। এর কিছুদিন পরেই হেলালকে গ্রেফতার করা হয় এবং লালতুর বাসায় পুলিশ হানা দেওয়ায় তিনি গোপীবাগে তার বন্ধু হিরুর বাসায় প্রায় এক মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে রক্ষায় তৎপরতা
তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগেই ব্যবসায়ী নেতা গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গুম করে রেখেছিল। মামুন বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে তখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
সেসময় শাহাবুদ্দিন লালটু মামুনের মাকে হাওয়া ভবনে নিয়ে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করিয়ে দেন। এছাড়া মামুনকে যেন ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা না হয়, সেজন্য মামুনের ভাই ডা: জিয়াকে সাথে নিয়ে জেনারেল মাসুদের বাসায় যান, যিনি সম্পর্কে মামুনের মামা ছিলেন।
পরবর্তীতে মোশাররফ হোসেন বাবলু নামের এক ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে ফখরুদ্দিন সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের ভায়রা সম্পর্কের বরিশালের এক সাবেক এমপির বাসায় যান লালটু। সেখানে বসে থেকে ওই সাবেক এমপিকে দিয়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে ফোন করান, যাতে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ারের শিকার হতে না হয়।
আদালত প্রাঙ্গণের চিত্র ও তারেক রহমানের বার্তা
তারেক রহমানকে যেদিন ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়, সেদিন ফরহাদ হোসেন আজাদকে সাথে নিয়ে কোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন লালটু। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আজাদ তাকে পাশের একটি মার্কেটে নিরাপদ দূরত্বে রেখে একাই কোর্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে আজাদ আদালত থেকে ফিরে এসে লালটুকে জানান যে, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারেক রহমানের সাথে তার সংক্ষিপ্ত দেখা হয়েছে। সেসময় তারেক রহমান আজাদকে ১ লাইন কথা বলার সুযোগ পেয়ে বলেছিলেন, “তোমার মামুন ভাবীকে বলবে মামুন আছে।”
আদালত চত্বরের এই ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায় পার করে তারা সোবহানবাগে সমবেত হন এবং বেগম জিয়া ও কারাবন্দী তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে পরবর্তী রাজনৈতিক তৎপরতা ও পরিকল্পনা শুরু করেন। ২০০৭ সালের সেই সংকটময় দিনে দলের শীর্ষ নেতাদের রক্ষায় এসব নেপথ্য ভূমিকা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তারেক রহমানের গ্রেফতার ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের গুমের দিনগুলোতে নেপথ্যে যা ঘটেছিল: মোশাররফ হোসেন বাবলুকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লালটুর স্মৃতিচারণ






