ইফতেখার আলামিন , চরফ্যাশন:
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। হঠাৎ উপজেলা প্রশাসনের পরিদর্শনে (ইউএনও) একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় স্থানীয় কর্মকর্তারা মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নং সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। কিন্তু পরিদর্শনের সময় স্কুলে শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কাউকেই পাওয়া যায়নি। পুরো স্কুল চত্বর ছিল নিস্তব্ধ। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্কুলের চাবি পাশের এক বাসিন্দার নিকট জমা রেখে সব শিক্ষক চলে গেছেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, “এখানকার শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। চাবি থাকে পাশের বাড়ির মানুষের কাছে। সরকারি একটা স্কুল এভাবে চললে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী? বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের পাশের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি।”
একই দিনে প্রশাসনের দল ওই ইউনিয়নের চরলিউলিন চেয়ারম্যান বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ ও অসংখ্য লিখিত-মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ আরো দুই সহকারী শিক্ষক প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা পাঠদান বাদ দিয়ে নিয়মিত দলীয় রাজনীতি ও নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অপসারণ ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুজিবনগরে ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শনে থলের বেড়াল বের হলো: বন্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তুতি






