বিশেষ প্রতিনিধি:
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে সারের ডিলারশিপ ভাগাভাগি ও বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বইছে সমালোচনার তীব্র ঝড়। উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সুবিধাবাদী মনোভাব ও ডিলারশিপ দখলের বিষয়টি নিয়ে এতদিন সাধারণ কর্মীদের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতারাই ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন। তবে এই তীব্র সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেও রহস্যজনকভাবে চুপ ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজি এবং সদস্য সচিব কাজী অনিক।
অবশেষে ফাঁস হওয়া সরকারি তালিকার সূত্র ধরে বেরিয়ে এলো তাদের সেই নীরবতার চাঞ্চল্যকর কারণ!
কুকরী মুকরীর সারের ডিলার ছাত্রদল নেতাদের পকেটে:
ফাঁস হওয়া নথি ও তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চরফ্যাশনের উপকূলীয় চর কুকরী মুকরী ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ (মেসার্স প্রান্তিক এন্টারপ্রাইজ) সুপারিশ করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজি ও সদস্য সচিব কাজী অনিকের নামে।
যেখানে সাধারণ ছাত্রদল কর্মী ও তৃণমূল নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারের ডিলার ভাগাভাগি ও উপজেলা নেতাদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন, সেখানে খোদ শীর্ষ দুই নেতাই ডিলারের ভাগ বাগিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন “তাহলে কি নিজেদের স্বার্থ হাসিল হয়েছিল বলেই এতদিন তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং সাধারণ কর্মীদের ক্ষোভ ও বিদ্রোহ থামাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি?”এমপি সমর্থিত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে সারের ডিলারশিপের মতো সরকারি সুবিধা পকেটে পোরা এবং একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বিদ্রোহ দমন করতে না পারায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
ফেসবুকের তোলপাড় ও তৃণমূলের নীরব প্রতিবাদ:
গত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সারের ডিলার বণ্টন নিয়ে উপজেলা নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চলছে। এতে সাধারণ নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের তরুণদের উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে বেশি। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের ডিলার পাওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, “আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উচিত ছিল সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কিন্তু তারা নিজেরা ভাগ পেয়ে চুপ থেকে প্রমাণ করেছেন, পুরো চরফ্যাশন আজ সাধারণ কর্মীদের রক্তের বিনিময়ে গুটিকয়েক উপজেলা নেতার পকেটে জিম্মি হয়ে পড়ছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং সাধারণ কর্মী ও কৃষকরা এই বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সারের ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
চর কুকরী মুকরীর সারের ডিলার ছাত্রদল নেতাদের পকেটে!






