ইতিহাসে প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ!
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে জোরালো আলোচনা চলছে। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নারী নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া দেশটি এবার প্রথমবারের মতো একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে—এমন দাবি করছে রাজনৈতিক মহল। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নাম।
অতীতের প্রধানমন্ত্রীদের ধারাবাহিকতা
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মূলত দুই নারী নেতা—
খালেদা জিয়া (১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬)
শেখ হাসিনা (১৯৯৬-২০০১, ২০০৯ থেকে পরবর্তী সময়)
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দুই নেত্রীর নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সময়কাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের দ্বি-মেরুকরণ তৈরি করে।
২০২৬ সালের নির্বাচন ও বিএনপির জয়
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার পাচ্ছে বিএনপি।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিএনপির নেতারা এটিকে “নতুন ইতিহাসের সূচনা” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
জনমনে প্রত্যাশা
যদি সব সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। সমর্থকরা বলছেন, এটি হবে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন; সমালোচকরা বলছেন, কার্যকর সুশাসনই হবে আসল পরীক্ষার জায়গা।
দেশ এখন অপেক্ষায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সবকিছু ঠিক থাকলে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়।






