ফারহানা এবং ফজলুর রহমানের একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য বিএনপিকে নতুন করে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপি যখন একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুই নেতার কর্মকাণ্ড দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
দুই নেতার বিতর্কিত কার্যকলাপ দলের নতুন নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। একদিকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল রহমানকে তার সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান বিরোধী বক্তব্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে,
অন্যদিকে দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হট্টগোল এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন।
এই দুটি ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল রহমান সম্প্রতি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা দলটির অভ্যন্তরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
একটি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি এই অভ্যুত্থানকে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এর পেছনে ‘কালো শক্তি’ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার এই বক্তব্য গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে অপমান করার শামিল বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হট্টগোল এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন।
দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত এক শুনানিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহর সঙ্গে তার এবং তার সমর্থকদের ধাক্কাধাক্কি, এমনকি কিল-ঘুষির ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটি ঘটে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের উপস্থিতিতেই।
এনসিপি নেতা আতাউল্লাহর অভিযোগ, তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে কথা বলতে গেলে রুমিন ফারহানা তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন এবং তার ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। আতাউল্লাহর অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনামলেও নির্বাচন কমিশনের সামনে কমিশনারদের সামনে কেউ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে এমন নজির নেই। ’ এনসিপির নেতারা রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার দাবি, তাকেই প্রথম ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাঞ্জাবি পরা একজন আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। তারপরে আমার লোক তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন নারী। পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজন জবাব দিয়েছে। এটা খুবই সাধারণ বিষয়। ’
শ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার প্রেক্ষাপট যা-ই হোক না কেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন সহিংস আচরণ বিএনপির ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ তৈরির চেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
যখন বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন তাদেরই একজন নেত্রীর দ্বারা কমিশনের শুনানিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাটা দলের অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যেই সংযম ও গণতান্ত্রিক আচরণের অভাব রয়েছে, যা ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন রাজনীতির চেতনার সঙ্গে বেমানান।






